Mon Valo Korar Upay অতিরিক্ত চিন্তা থেকে মুক্তির উপায়

এই পোস্টটির দ্বারা আপনি বিস্তারিত জানতে পাবেন Mon valo korar kichu sohoj upay, tips, এবং অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে মুক্তির সেরা উপায়, ও মন খারাপের বিভিন্ন কারণ সমূহ ও তার সমাধান সম্বন্ধে.

Mon Valo Korar Upay Jene Nin

মন কেন খারাপ হয়

মানুষের জীবনে দুঃখের প্রধান কারণ হলো অনেক বেশি চিন্তা করা, কোনো সমস্যা নিয়ে গভীর ভাবে ভাবা ভিতর থেকে মন ও শরীর দুই কেই অসুস্থ করে তোলে, যদি সমস্যাকে যদি জীবন মরণের কারণ বলে মনে করা হয়, তাহলে প্রতিদিন মরে মরে বাঁচতে হবে, দুশ্চিন্তা এমন এক অভ্যাস যা রাতের ঘুম নষ্ট করে দিয়ে, মনেকে ধীরে ধীরে ক্ষতবিক্ষত করে তোলে,

প্রয়োজনের বেশি চিন্তা করা মানুষগুলো নিজেকে নিয়ে সবসময় অস্থির থাকে, এরা বেশিরভাগ সময়ই দুঃখের মধ্যে দিয়ে দিন অতিবাহিত করে থাকে, তারা বুঝতেই পারেনা জীবনের জন্য খুশি, আনন্দ এসবেরও প্রয়োজন,

তারা মনে করে আমার জীবনে কেনো এরকম ঘটনা ঘটলো? সে মনে করে সে বাদ দিয়ে পৃথিবীর সবাই সুখী, আসলে বাস্তবে এরকম কিছুই না সবকিছুই তার চিন্তা, আর এরকম ভাবতে ভাবতে মন একসময় ডিপ্রেশনের দিকে চলে যেতে থাকে, এই অবস্থা কে বলা হয় generalized anxiety disorder (GAD).

মনের মধ্যে একের পর এক চিন্তা চলতেই থাকে, একসময় মনে হয় যে মন স্থির হতেই চায়না, এরকম ব্যাক্তি সবসময় ভয়ের মধ্যে বেঁচে থাকে, কিছু খারাপ হবার ভয়, কিছু হারিয়ে ফেলার ভয়, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ভয়, ব্যাবসা বানিজ্য লোকসান নিয়ে ভয়, কেউ ছেড়ে চলে যাওয়ার ভয়, সবসময় মনে একপ্রকার ভয় বাস করে,

যে কথা নিয়ে এই দুশ্চিন্তা আসলে তা যে ঘটবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই, তবু মনে মনে ভেবে চিন্তা করে মনকে শুধু শুধু অসুস্থ ও দুর্বল করে ফেলা,

পৃথিবীতে সফল ব্যক্তি তারাই যারা চিন্তা ও দুঃখহীন ভাবে বেঁচে থাকতে শিখেছে, যে ব্যাক্তি নিজের জীবন সমস্যা বিষয়ক ভাবনা নিয়ে শুধু ভেবেই চলে, তারাই কেবল অসফল রয়ে যায়, বেশি চিন্তা করা ব্যাক্তি খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে যায়, ফলে মাথা ব্যাথা, শরীরে দুর্বলতা অনুভব হতে থাকে, মন শরীরকে চালনা করে তাই বেশি দুশ্চিন্তার ফলে মন একসময় ক্লান্ত হয়ে পরে, আর এর কারণে শরীরও তার ছন্দ হারিয়ে ফেলে, কোনো কাজে মনোযোগ আকর্ষণ হয়না,

ওভারথিঙ্কিং এক এমন অসুখ যা মানুষের মনে এমন এক সমস্যা তৈরি করে দেয় যা বাস্তবে যা হয়েই না, আজকাল বেশিরভাগ মানুষ মনে করে চিন্তা তো সবারই হয়, কিন্তু কেউ কি ভেবে দেখেছেন যে চিন্তা ভাবনা গুলো মন অনবরত করতে থাকে সেটা কতটা যুক্তিযুক্ত জীবনের জন্য,

সবার প্রথম বুঝতে হবে অনেক বেশি চিন্তা করা কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয়, এটা একটা মনের অসুখ তবেই আপনি নিজেকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিতে পারবেন,

মন ভালো রাকার উপায়

দুশ্চিন্তা দুর করার কিছু উপায় এখানে বলা হলো যেগুলো অনুসরন করলে একটা সুন্দর ও সুস্থ জীবন পেতে সাহায্য মিলবে,

1. নিজেকে সবসময় নেতিবাচক কথা বার্তা ও ভাবনা থেকে দূরে রাখুন, কারণ আমাদের মন সবসময় নেতিবাচক দিক গুলোকেই গুরুত্ব দিতে বেশি পছন্দ করে, খারাপ কোনো কিছু খুব তাড়াতাড়ি ঘটে যায় কিন্তু এর থেকে মুক্তি পেতে অনেকটা সময় লেগে যায়, তাই যতটা সম্ভব নিজেকে খাপার বা নেতিবাচক দিক থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন,

নেতিবাচক কথা বার্তা মনকে দুর্বল করে দিতে থাকে, আর পজিটিভ কথা নিজের মধ্যে শক্তি সঞ্চয় করেতে সাহায্য করে।

এর জন্য ভালো কিছু শোনা, নতুন বিষয়ে জানা, বই পড়া, নিজের পছন্দের কোনো কিছু করা, ভালো কোনো মানুষ বা বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটানো, এসব করা যেতে পারে,

2. যে কাজ করতে ভয় লাগে সে কাজ একবার সাহস করে করে দেখা যেতেই পারে, যদি এই কাজ না করা হয় তাহলে সেই কাজের প্রতি ভয় রয়েই যাবে, আর এই ভয় বয়ে বেড়াতে হবে সারাজীবন, তাই যদি মনে হয় কাজটি জীবন ও জীবিকার জন্য উপযোগী তাহলে কাজটি কোনো কিছু দ্বিধা ছাড়াই করেতে আরম্ভ করে দিন, ধীরে ধীরে সব ভয় কেটে দূরে সরে যেতে থাকবে,

আর যখন ভয় কেটে যাবে তখন মন শান্ত ও স্থির হতে থাকবে, মনের ভিতর এক অভূতপূর্ব শক্তি ও আত্মবিশ্বাস জাগবে,

3. সঠিক সময় সঠিক পরিমাণে খাওয়া দাওয়া করুন, আমাদের খাওয়ার উপরেও মন ভালো থাকার কারণ নির্ভর করে, যদিনা সঠিক সময় আহার নেয় হয়, আর রকমই ভাবেই যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে তাহলে একসময় দেখা যাবে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ছে, আর শরীরের সাথে মনের নিবিড় সম্পর্ক আছে, আস্তে আস্তে মিনও অসুস্থতার দিকে চলে যেতে থাকবে, তাই সুন্দর মন ও স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনের জন্য সঠিক সময়ে সঠিক আহার গ্রহণ করা খুবই জরুরি,

4. ঠিক সময়ে রাতে ঘুমানোর অভ্যাস ও সকালে তাড়াতাড়ি ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, ডক্টর বলেন যে মানুষ রাতে ঠিক সময়ে ঘুমায় এবং সকালে ঠিক সময় ঘুম থেকে উঠে সেই ব্যাক্তির শরীর 70% রোগ মুক্ত থাকে,

আমাদের শরীরের ভিতর বিভিন্ন ব্যাধি সারিয়ে নেয়ার এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে, যখন আমাদের শরীর সম্পূর্ণ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে ওই সময় শরীর তার রোগ গুলোকে নিজে থেকেই ঠিক করতে সক্ষম হয়, তাই প্রতিটি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ও সঠিক নিদ্রা খুবই জরুরি,

5. মেডিটেশন: স্বাস্থ্য ও মন সুস্থ রাখতে রোজ মেডিটেশন বা ধ্যান অবশ্যই করা দরকার, প্রতিদিন কমপক্ষে ত্রিশ মিনিট ধ্যান করা দরকার তবে প্রথম প্রথম শুরুর দিকে পনেরো মিনিট করলেই হবে, তারপর অভ্যাস গড়ে উঠলে সময় বাড়িয়ে নিতে হবে, ধ্যানকে জীবনের একটি অঙ্গ হিসাবে নিয়োগ করে নিতে হবে,

যেমন সময় সময়ে আমরা আমাদের শরীর কে মুক্ত করার চেষ্টা করি, তেমনি মনকেও মুক্ত করতে হবে, আর এটা তখনই সম্ভব যখন নিয়মিত ধ্যানের অভ্যাস গড়ে তোলা সম্পূর্ণ সম্ভব হবে,

মন থেকে নেগেটিভ চিন্তা দুর করা প্রয়োজন, মনকেও শুদ্ধ করে তোলা প্রয়োজন, একটা কথা মনে রাখা খুব দরকার যার মন যত শুদ্ধ সে তত প্রিয় নিজের কাছে ও অন্যেক কাছে,

আর এর জন্য নিয়মিত ধ্যানের সাহায্য নিতে হবে, মন থেকে এই চিন্তা দুর করে দিতে হবে, যে ধ্যান কেবল ধার্মিক ব্যাক্তিরাই করে থাকেন, আসলে এসব কিছুই না, ধ্যান সবার জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্যই এর আবির্ভাব ঘটেছে, যা প্রাচীন যুগ থেকে আজও চলছে,

ধ্যান করার ফলে দুশ্চিন্তা আপনা থেকেই কম হতে থাকে, আর নিয়মিত ধ্যান করলে মনে শান্তি ও সুখ ধীরে ধীরে বাসা বাঁধে, যা কোনরকম আর্থিক ব্যবস্থা ছাড়াই, একজন মানুষকে একটি সুন্দর জীবন অপহার দিতে পারে,

সবশেষে মনে রাখতে হবে যে অধিক চিন্তা করে বা বেশি বেশি ভাবনা ভাবলে, না আপনার ফেলা আসা দিনের ব্যাথা ফুরাবে, আর না আপনার আগামী দিন গুলো অনেক বেশি সুখকর হবে,

যেটা হবে সেটা হলো আপনি আপনার আজকের দিনটিকে নষ্ট করে ফেলবেন, দুঃখ আর বেদনার ব্যথায় কখন আজকের দিনটি শেষ হয়ে গেলো তা বোঝার অবকাশই থাকবেনা,

তাই বলবো চলে যাওয়া দিনের জন্য দুঃখ না করে বা ভবিষ্যতের জন্য বেশি ভাবনা না ভেবে, আপনার কাছে যে আজ আছে তাকে নিয়ে বেশি ভাবুন, আজকের দিনটিকে উপভোগ করুন, আজকের দিনকে স্মরণীয় করে তুলুন ভবিষ্যতের জন্য, মনে রাখতে হবে যে বর্তমানকে সুন্দরের মধ্যে দিয়েও আগামীর দিন গুলোকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা সম্ভব,

পৃথিবীতে তারাই সুখী ও সফল যারা মনকে শান্ত, ধীরস্থির রাখতে পারে ও নিজের মনকে নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, ধন্যবাদ.

Leave a Comment