2022 Prerona Mulok Kichu Kotha অনুপ্রেরণামূলক জীবনমুখী বক্তব্য কথা

নিজের ভবিষ্যৎ বদলে দেয়ার জন্য Bangla anuprerona mulok kotha অনুপ্রেরণামূলক জীবনমুখী বক্তব্য, কথা, লেখা এখানে আপনি পাবেন, জেগুলে জীবনকে আরও সহজ করে তুলতে সাহাজ্য করেবে, এবং নিজের মধ্যে প্রেরনা ও জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সচেষ্ট হবেন.

সমস্ত সমস্যার উৎসস্থল হলো মানবীয় দুর্বুদ্ধি, এর পরিবর্তে যদি সদবুদ্ধি র প্রণয়ন করা যায় তাহলেই মানব কল্যাণ ও বিশ্ব শান্তির সমাধান করা সম্ভব হবে। আর তাই বিভিন্ন মনীষী ও ঋষি গণ তাদের চিরন্তন বাণী, উক্তি, ও চিন্তাধারাকে সমাজের সুফলের জন্য ব্যক্ত করে গেছেন। যা এখনো মানুষের মনে ও হৃদয়ে প্রেরণা যুগিয়ে চলেছে।

prerona mulok jibon jibonmukhi kotha

ওঠো জাগো থেমে থেকো না, যতক্ষণ পর্যন্ত লক্ষ্য প্রাপ্ত না হচ্ছে, যদি আপনি প্রকৃত যোগী হতে চান তাহলে যা ঘটছে ঘটতে দিন, আপনার সম্পর্কে যা কিছু বলা হচ্ছে তা বলতে দিন, আপনি সবকিছু মরীচিকার মত মনে করুন, নিজের সমালোচনা করতে গিয়ে কোনরকম ত্রুটি যেন না থাকে,

Best Prerona Mulok Kichu Kotha Boktobyo

অন্যেরা আপনার প্রতি কি ধরনের আচরণ করছে, তা নিয়ে চিন্তিত হবেন না, আপনি শুধু আত্মোন্নতির জন্য তৎপর থাকুন, এই তথ্যটি যদি হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন, তাহলে জানবেন একটি বড় রহস্যের সন্ধান পেয়ে গেছেন,

মনকে সবসময় কাজে নিযুক্ত রাখার চেষ্টা করুন, তাকে কখনো অলস করে রাখেন না, জীবনকে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে অতিবাহিত করুন, আর্তনাদের মতো মহান কাজ সামনে পড়ে আছে, যার জন্য হাতে সময় অত্যন্ত কম, সাবধান ভাবে জীবন যাপন না করলে পথভ্রষ্ট হয়ে পড়তে হবে, শোকগ্রস্ত হতে হবে এবং অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতিও দেখা দিতে পারে,

যদি ধৈর্য ও আশা অটুক থাকে, তাহলে অতি শীঘ্রই আপনার মধ্যে জীবনের সমস্ত রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার যোগ্যতা ও ক্ষমতা জেগে উঠবো, নিজের শক্তিতে শক্তিমান হয়ে উঠুন, প্রয়োজনে সমস্ত পৃথিবীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আহ্বান জানান, পরিণামে হতে হতে পারে না, আপনি শুধু নিজেকে মহান ও তার পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সচেষ্ট থাকুন, অন্যেরা ভৌতিক সম্পত্তির খোঁজ করে কিন্তু আপনি শুধু আন্তরিক ঐশ্বর্যের অনুসন্ধান করুন,

প্রতিটি মুহূর্ত এবং সুযোগের সৎ ব্যবহার করতে হবে, দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে, সব সময় দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলতে হবে, এবং সম্পূর্ণ আত্মবল সহকারে কর্মে নিরত হতে হবে, তাহলেই আপনি আপনার লক্ষ্যে অবশ্যই পৌঁছে যাবেন,

কোন বিষয়ে ক্ষুব্ধ হবেন না, সহিষ্ণুতার অভ্যাস করুন, নিজের দায়িত্ব বুঝতে সচেষ্ট হন, কারোর দোষ দেখা এবং সেই বিষয়ে মন্তব্য করার আগে নিজের বড় বড় দোষগুলির সন্ধান করুন, যদি নিজের বাণীকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে তাকে মনের বিরুদ্ধে নয় বরং নিজের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করুন,

সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য অন্যের চাইতে ঈশ্বর রূপী নিজের অন্তরাত্মার প্রতি বেশি বিশ্বাস রাখুন, সেই আপনাকে পথ দেখাবে এবং সৎ পথে পরিচালনা করবে,

মহান ব্যাক্তিগন সর্বদা একাই চলেছেন এবং একাকিত্বের কারণেই তারা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পেরেছেন, একাকী ব্যক্তিরা তাদের নিজস্ব শক্তির দ্বারই পৃথিবীর মহানতম কার্য সম্পাদন করতে পেরেছেন এবং একমাত্র নিজের কাছেই অনুপ্রেরণা লাভ করেছেন,

তারা নিজেদের আন্তরিক সুখের সর্বদা প্রফুল্ল থেকেছেন, কখনো অন্যের সাহায্যে নিজের দুঃখকে নিবারণ করা করার আশা করেন নি, বড় বরং নিজের প্রবৃত্তিকেই একমাত্র আশ্রয়ে করে গেছেন,

একাকিত্বের জন্য উদ্বিগ্ন হওয়া নিজেকে দুর্ভাগ্যবান মনে করা নিরাশ হয়ে পড়া মহাপাপ। একাকীত্ব হলো নিজের গুপ্ত শক্তিগুলি বিকশিত করার এক মহান উপকরণ। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পরে আপনি নিজের উচ্চতম শক্তিগুলিকে খুঁজে বার করতে পারবেন।

যেদিন আপনার নিজের উপর নিজের ক্ষমতার উপর এবং মনের উপর পূর্ণ বিশ্বাস জেগে উঠবে। সেদিনই আপনার অন্তরাত্মা আপনাকে ডেকে বলবে, ‘ সমস্ত বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করে একাকী এগিয়ে চলো সম্পূর্ণ একাকী ’

যে সমস্ত ব্যক্তিদের উপর নির্ভর করে আশা-আকাঙ্ক্ষার বিশাল প্রাসাদ গড়ে তুলেছেন তা কেবল কল্পনা আকাশে বিচরণ করার মতোই অলৌকিক, অস্থির, অসার, ও ফাঁপা।

পরনির্ভরশীল হওয়ার অর্থ হলো নিজের মৌলিকতা খণ্ডন করা, নিজের সাহস ক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেওয়া। যে ব্যক্তি অন্যের সহায়তায় জীবন অতিবাহিত করে, সে অতি শীঘ্রই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে,

অন্যকে নিজের জীবনের সঞ্চালক করে তোলার অর্থ হলো নিজের নৌকাকে এমন প্রবাহে ঠেলে দেওয়া, যার কোন সঠিক কিনারা জানা নেই।

Prem niye kichu Preronamulok kotha

প্রেম এমন এক মহান শক্তি, যা সকল দিক দিয়ে জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করে। প্রেম ছাড়া কারও চিন্তা ধারায় পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব নয়। কেবলমাত্র তর্কবিতর্কের মাধ্যমে চিন্তা ধারার সৃষ্টি হয় এমন নয়। সদবিচার এবং বিশ্বাস বহুদিনের সৎসঙ্গের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। দীর্ঘকালীন সুসঙ্গতিই প্রেমে পরিণত হয়। সুতরাং বিচার এবং বিশ্বাস হলো প্রেমেরই বিষয়বস্তু।

যদি আপনি অন্যের উপর বিজয় লাভ করে তাকে আপনার নিজস্ব চিন্তা ধারায় পরিচালিত করতে চান, তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে তাকে নিজের কথা মত পরিচালিত করতে চান তাহলে আপনাকে প্রেমের সাহায্য নিতে হবে। তর্ক ও বুদ্ধি এ বিষয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে না। প্রেম ও সহানুভূতিতে পরিপূর্ণ বাণী শোনার জন্য সারা পৃথিবী উন্মুক্ত হয়ে আছে।

আমরা প্রায়শঃ অন্যদের জোর করে নিজেদের বিশ্বাস, মতামত, এবং নিজেদের ইচ্ছানুসারে জীবনযাপন করার জন্য বাধ্য করে থাকি। অন্যকে বলপূর্বক সংশোধন করা নিজেদের সিদ্ধান্ত অথবা দৃষ্টিভঙ্গিতে জোর করে অন্যের উপর চাপিয়ে দিলে সংশোধনের কাজটিও যেমন হয় না আবার নিজের কাছে নিজে প্রসন্ন হওয়ার সম্ভাব নয়,

তাই জীবনে কিছু করতে হলে নিজেকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে প্রেমের সাহায্য আপনাকে নিতেই হবে, একমাত্র পরিশুদ্ধ প্রেমই পারে একটি সহজ জীবন উপহার দিতে।

মোটিভেশনাল বক্তব্য

আমরা মনে করি যদি অমুক ব্যাক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারি তাহলে পরোক্ষ ভাবে আমাদের উন্নতি অবশ্যই হবে। অমুক ব্যাক্তি আমার উন্নতির পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তমুক ব্যাক্তি আমার নামে নালিশ করে, আমার দোষ খোঁজে, অসম্মান করে, অতএব আমাদের কাজ হলো নিজেদের উন্নতির বিষয়ে চিন্তাভাবনা না করে প্রথমেই নিজের প্রতিপক্ষকে পরিতিরোধ করার চেষ্টা করি।

মনে এই ধরনের চিন্তাভাবনা পোষণ করা এবং অন্যকে নিজের সাফল্যের পথে আসাফল্যের কারণ ভেবে নেওয়াটা এক মস্ত বড় ভ্রান্ত ধারণা।

প্রতিকূলতাকে যদি ভয় না করেন, এবং অনুকূলতাকেই সর্বস্ব মনে না করে থাকেন, তাহলে সবকিছু করতে সক্ষম হবেন। হাতের কাছে যা কিছু পাবেন তার মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করে জীবনকে উচ্চ স্তরে উন্নতি করুন। এই জীবন যে পরিমাণে উন্নত হতে থাকবে, ঠিক ততোটাই যা কিছু আজ প্রতিকূল বলে মনে হচ্ছে, সে সবই ক্রমশ অনুকূল হয়ে উঠবে, এবং অনুকুলতার ফলে সকল দুঃখ কষ্টেরও নিবৃত্তি ঘটবে।

জীবনমুখী লেখা

মনে যখন পুরনো দুঃখের স্মৃতি জেগে উঠে, তখন তাদেরকে এড়িয়ে যাওয়া কিংবা একবারে ভুলে যাওয়াই ভালো। জীবনে অপ্রিয় বিষয়গুলিকে ভুলে যাওয়া একেবারে আবশ্যক। অপ্রিয় ঘটনাগুলোকে ভুলে যাওয়ার সাথে সাথে যত ভালো বিষয় আছে তাদের স্মরণ রাখাও আবশ্যক। যদি শরীর, মন, ও আচরণের দিক থেকে সুস্থ থাকতে চান তাহলে অসুস্থতার বিষয় গুলোকে একেবারে ভুলে যেতে হবে।

স্বীকার করছি যে আপনার কোনো আপন জনই আপনাকে আঘাত দিয়েছে, আপনার মনে কষ্ট দিয়েছে, তাই বলে কি সেই বিষয় গুলোকে নিয়েই সারা জীবিন জল্পনা কল্পনা করে যেতে হবে? সেই কষ্টকর অপ্রিয় প্রসঙ্গোগুলোকে মন থেকে চিরতরে মুছে ফেলুন, সেসব বিষয়ে একটুও না ভেবে বরং কোন ভালো ও শুভ কাজে মনোযোগ দিন,

সমস্ত দুঃখ কষ্টকে ভুলে যাওয়াই হচ্ছে সমস্থ দুশ্চিন্তার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার সর্বোত্তম উপায়।

আপনার দুঃখ সুখের অধীনতা পরিত্যাগ করে, তাদের উপর নিজের প্রভুত্ব স্থাপন করুন এবং তাদের মধ্যে থেকে যা কিছু ভালো বা উত্তম, সেগুলির দ্বারাই নিজের জীবনকে নিত্য নতুন রসে সিক্ত করে তুলুন।

জীবনকে সমুন্নত করে তোলাই হলো মানুষের প্রধান কর্তব্য, সুতরাং আপনার পক্ষে যেটি উচিৎ মনে হবে, সেই পথ অবলম্বন করে এই কর্তব্যকে সম্পূর্ণ করে তুলুন। আত্মনিরীক্ষণই নিজের কাজে অসারতার সারা দেবে।

কে বিরোধ করছে কে সমর্থন করছে তার হিসাব না রেখে, আমরা আমাদের বিবেকজ্যোতিকে অবলম্বন করে সফলতার দিকে অগ্রসর হব। আমাদের অন্তরাত্মা, সাহস আমাদের সাথেই আছে। সত্যের জন্য, ধর্মের জন্য, ন্যায়ের জন্য একাকীই অগ্রসর হবো, এবং সর্বদা সেটাই করবো যা একজন সজাগ ব্যাক্তির পক্ষে করা উচিৎ এবং উপযুক্ত।

Leave a Comment